নীলফামারীতে প্রধান শিক্ষক ষষ্ঠি চরণকে শ্বাস রোধ করে হত্যার চেষ্টা

নীলফামারী প্রতিনিধি: বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মাঝ রাতে হামলা চালিয়ে উত্তর কালিকাপুর পশ্চিমপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ষষ্ঠি চরণকে বিভিন্ন ভাবে আঘাত ও শ্বাস রোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায় বাড়ির মালিক সহ বেশ কিছু অস্ত্রধারি। অপর দিকে প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী গীতা রানী রায়কে পাক হায়নার মত তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় শ্লীলতা হানী করে বিছানার তোষকের তল থেকে ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় সর্দারনী মোছাঃ আহেনা বেগম, গং- ঘটনাটি ঘটেছে জামায়াত অধ্যুষিত নীলফামারী খালিশা খুটামারা ইউনিয়নের সবুজ পাড়া গ্রামে। এ বিষয়ে বিজ্ঞ আমলী আদালত (জলঢাকা) নীলফামারী কোর্টে মামলা দায়ের করে পিটিশন নং- ১৪৮/২০১৯(জল:) মামলার এজাহার ও সরেজমিনে জানা গেছে, উত্তর কালিকাপুর পশ্চিমপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ষষ্ঠি চরণ রায় তার স্ত্রীকে নিয়ে খালিশা খুটামারা সবুজ পাড়া গ্রামে মোজাফ্ফর হোসেন (৪৭) এর বাসায় ১ বছর ধরে ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করে আসছেন। ১০ অক্টোবর রাত ১১টার পর বাড়ী ওয়ালার স্ত্রী সর্দারনী মোছাঃ আহেনা বেগম (৪০), মোজাফ্ফর হোসেন (৪৭), হাবিবুর রহমান (৪৬), এসলাম উদ্দিন (৫০) সহ আরো বেশ কয়েক জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ষষ্ঠি চরণ রায়ের দুয়ারে ডাক দেয় খুব দরকার আছে ভাই উঠেন। সরল বিশ্বাসে দুয়ার খুললে অতর্কিতে তার ঘরে ঢুকে মারপিঠ শুরু করে ও স্ত্রী গাতী রানী রায় এর শরীরে স্পর্শ কাতর অংশের কাপড়-চোপড় ছিরে বিবস্ত্র ও শ্লীলতা হানির চেষ্টা চালায় সর্দারনী মোছাঃ অহেনা বেগম গং একপর্যায়ে ষষ্ঠি চরন স্ত্রী গীতা রানীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা প্রধান শিক্ষক ষষ্ঠি চরণকে শ্বাস রোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। তাদের ঘর তছনছ করে ষষ্ঠি চরণের ছোট ভাই প্রদীপ কুমারের দোকানে মালামাল ক্রয়ের ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা বিছানার তোষক এর নিজ থেকে বের করে নিয়ে যায় সর্দারনী মোছাঃ আহেনা বেগম। পরে স্থানীয় লোকজন এসে ষষ্ঠি চরণ ও স্ত্রী গীতা রানীকে আশংকা জনক অবস্থায় কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করে। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ষষ্ঠি চরণ বলেন, আমি যে বাড়িতে ভাড়া থাকি সেই বাড়াটিয়ার দোকান ঘর আমার ছোট ভাইয়ের জন্য ভাড়া নেই এ জন্য ২০ হাজার টাকা জামানত দেই বাড়ী ওয়ালা মোজাফ্ফর হোসেন ও স্ত্রী মোছাঃ আহেনা বেগমকে। দীর্ঘ ২ মাসেও দোকানটির কাজ সম্পূর্ণ করতে পারেনি বাড়ী ওয়ালা মোজাফ্ফর হোসেন। আর ২-৪দিন সময় চেয়ে ছিলেন তারা। এ অবস্থায় আমি ও আমার ছোট ভাই প্রদীপ কুমার গ্রামের বাড়ীর জমি বন্ধক দিয়ে ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে আসি। দোকান ডেকোরেশন ও মালামাল ক্রয়ের জন্য এ কথা জানতে পেরে বাড়ী ওয়ালার স্ত্রী অহেনা বেগম এলাকার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, আমি জিকির করি আর বাড়ি ভাড়া দিয়ে সংসার চালাই। প্রতি বৃহস্পতিবার আমার বাসায় জিকির হয়। অভিযুক্ত মোছাঃ অহেনা বেগম বলেন, আমার বাড়িতে ভাড়া থাকতো সত্যি এরা স্বামী-স্ত্রী মারামারি করছে আমরা তাদের মারধর করে ঘরে তালা লাগিয়ে বের করে দিয়েছি। কোন চেকের মাধ্যমে কোন ব্যাংক থেকে টাকাটা তুলেছে তা দেখাক তার সব মালামাল ঘরে তালা বন্ধ আছে। তাকে কিছুই নিয়ে যেতে দেই নাই। আপনাদের কোন সমস্যা? এলাকা বাসী নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, এই অহেনা বেগম খুব খারাপ মহিলা বাড়ি ভাড়া দিয়ে বিভিন্ন মানুষকে ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেয়া তার পেশা। এছাড়াও জিকিরের আড়ালে নারী ব্যবসা পরিচালিত করে আসছে সর্দারনী মোছাঃ অহেনা বেগম। সম্প্রতি মিল্ক ভিটা ডেইরের এক ম্যানেজারকে ফাঁদে ফেলে ১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সর্দারনী মোছাঃ অহেনা বেগম। আপনারা অহেনার সাথে কথা বললে বুঝতে পারবেন উনি কেমন নারী। এলাকার চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সাথে তার গাভীর সর্ম্পক থাকায় সে অনেক অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে আর প্রধান শিক্ষক হিন্দু মানুষ তিনি অহেনার কিছুই করতে পারবেন না। অপর দিকে প্রধান শিক্ষক ষষ্ঠি চরণ অর্থ, সম্মান ও নিজ ঘরের প্রয়োজনীয় আসবাব পত্র হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। মামলা তুলে নিতে মুটো ফোনে প্রধান শিক্ষক ষষ্ঠি চরণকে হুমকি ধামকি অব্যাহত রেখেছে সর্দারনী মোছাঃ অহেনা গং।

শেয়ার করুন